Monday, 4 October 2021

আলা হযরতের জীবনী (৩য় খন্ড)


মাত্র ৩০দিনে হাফেজে কুরআন



আল্লাহ তাআলার রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক, আর তাঁর সদকায় আমাদের বিনা হিসাবে মাগফিরাত হোক।


ﺍٰﻣِﻴﻦ ﺑِﺠﺎ ﻩِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰِّ ﺍﻟْﺎَﻣﻴﻦ ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ


“কিছ্ তরেহ ইত্নে ইলম কে দরয়া বাহা দিয়ে


উলামায়ে হক্ব কি আকল তো হায়রান হে আজ ভি।”


ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺤَﺒِﻴﺐ ! ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻠﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪ


হযরত সায়্যিদ আইয়ুব আলী সাহিব ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ বর্ণনা করেন: “একদিন আ’লা হযরত ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ


বলেন: “আমার সম্পর্কে কিছু অনবহিত লোক আমার নামের আগে হাফেজ লিখে থাকেন, অথচ আমি পবিত্র কুরআনের হাফেজ নই।” সায়্যিদ আইয়ুব আলী সাহেব ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ আরও বর্ণনা করেন, “যেদিন আ’লা হযরত ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ এ কথা বলেছেন, সেদিন থেকে তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ মুখস্থ করা শুরু করে দেন এবং ইশার নামাযের জন্য অযু করার পর থেকে জামাআত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি কুরআন শরীফ মুখস্থ করার জন্য সময় নির্ধারণ করে নেন। এভাবে তিনি দৈনিক এক পারা করে মাত্র ত্রিশ দিনে ত্রিশ পারা কুরআন শরীফ হিফজ করা শেষ করেন। এক জায়গায় তিনি


ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ

 বলেন যে, আমি কুরআন শরীফ ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে মুখস্থ করি আর তা এজন্য যে, ঐসব আল্লাহর বান্দার কথা (যারা আমার নামের আগে হাফেজ লিখে দেয়) যেন ভূল প্রমাণিত না হয়। (হায়াতে আ’লা হযরত, ১ম খন্ড, ২০৮ পৃষ্ঠা, মাকতাবাতুল মদীনা, বাবুল মদীনা, করাচী)



আল্লাহ তাআলার রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক, আর তাঁর সদকায় আমাদের বিনা হিসাবে মাগফিরাত হোক।


ﺍٰﻣِﻴﻦ ﺑِﺠﺎ ﻩِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰِّ ﺍﻟْﺎَﻣﻴﻦ ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ


ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺤَﺒِﻴﺐ ! ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻠﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪ



নবীপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আ'লা হযরত



আমার আক্বা আ’লা হযরত ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ এর আপাদমস্তক রাসূল প্রেমের বাস্তব নমুনা ছিল। রাসূল (ﷺ) এর প্রশংসায় লিখিত তাঁর বিখ্যাত কাব্য গ্রন্থ “হাদায়েকে বখশিশ শরীফ” প্রিয় নবী, হুযুর করীম (ﷺ) এর প্রতি তাঁর অগাধ ভালবাসার সাক্ষ্য বহন করে। তাঁর ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ কলমের নিব নয় বরং অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে নির্গত উক্ত কাব্য গ্রন্থের প্রতিটি চরণ আক্বা (ﷺ) এর প্রতি তাঁর নজিরবিহীন ভালবাসার প্রমাণ দেয়। তিনি ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ কখনও দুনিয়ার রাজা বাদশাহ, আমীর ওমরাহ ও সম্রাটের সম্মানে বা প্রশংসায় কোন কবিতা রচনা করেন নি। কেননা তিনি রাসূল (ﷺ) এর আনুগত্য ও দাসত্বকে মনে প্রাণে কবুল করে নিয়েছিলেন। এতে উচ্চ পর্যায়ে পৌছেছিলেন। তিনি তাঁর এক কবিতায় রাসূল (ﷺ) এর প্রতি তাঁর আনুগত্য ও দাসত্বকে এভাবে বর্ণনা করেছে



▪ উনহে জানা উনহে মানা ন রাখা গাইর ছে 


লিল্লাহিল হামদ মে দুনিয়া ছে মুসলমান গেয়া


একদা “নানপারা” (জিলা বেহরাইচ, ইউপি, হিন্দ



প্রশাসনের নবাবের প্রশংসা ও গুন কীর্তনে তৎকালীন কবি সাহিত্যিকগণ অনেক কবিতা রচনা করে। কিছু লোক এসে আ’লা হযরত ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ কেও নবাবের প্রশংসায় কোন কবিতা লিখার জন্য আবেদন জানায় যে, হযরত! আপনিও নবাব সাহেবের প্রশংসায় কোন কবিতা লিখে দিন। তিনি ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ তাদের এ আবেদনের জবাবে একটি না’ত শরীফ লিখেন, যার প্রথম চরণ (মাত্লা*) নিম্ন



ওহ কামালে হুসনে হুযুর হে কে গুমানে নকছে জাহা নে


য়েহী ফুল খার ছে দূর হে য়েহী শামআ হে কে ধোঁয়া নে



কঠিন শব্দাবলীর অর্থ: কামাল= পরিপূর্ণ হওয়া, নকছ= অপূর্ণতা, ত্রুটি, খার= কা


কালামে রেযার ব্যাখ্যা: আমার আক্বা ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর সৌন্দর্য পরিপূর্ণতার স্তর পর্যন্ত পৌছেছে। অর্থাৎ প্রত্যেক দিক থেকে পরিপূর্ণ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ। এতে কোন ত্রুটি হওয়া তো দূরের কথা, ত্রুটির কল্পনাও করা যায় না। প্রত্যেক ফুলের ডালে কাটা থাকে কিন্তু আমেনার বাগানের এটি একটিই সুবাসিত ফুল হুযুর ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এমন যে, যেটা কাঁটা থেকে পবিত্র। প্রত্যেক মোমবাতি এটা ত্রুটি যে, সেটা ধোয়া বের করে তবে তিনি বাজমে রিসালাতের এমন আলোকিত প্রদীপ যে, ধোঁয়া সমূহ অর্থাৎ প্রত্যেক প্রকারের দোষত্রুটি থেকে পবিত্র


----------------


*গজল বা কসিদার শুরুর শের যাতে উভয় মিসরার/পংক্তির মধ্যে মিল রয়েছে, তাকে মাত্লা বলা হ


------------------------


অতঃপর কবিতার শেষ চরণে (মাক্তায়*) তিনি অতি সূক্ষ্মভাবে “নানপারা” প্রশাসনের নবাবের সমালোচনা করেন। চরণটি নিম্নরূ



▪ করো মদহে আহলে দুওয়াল রেযা পড়ে ইস বালা মে মেরী বা


মে গদা হো আপনে করীম কা মেরা দ্বীন পারায়ে না নেহী



কঠিন শব্দাবলীর অর্থ: মদ্হা= প্রশংসা, দুওয়াল= সম্পদ জমা করা, পারায়ে না= রুটির টু


কালামে রেযার ব্যাখ্যা: তিনি এ চরণে বুঝাতে চেয়েছেন, আমি রাজা বাদশাহ, আমীর ওমরাহদের প্রশংসা কেন করব! আমিতো উভয় জাহানের সুলতান, রহমাতুল্লিল আলামিন ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর দরবারের ভিখারী। আমার ধর্ম পারায়ে নান নয়। উর্দূতে ‘নান’ শব্দের অর্থ রুটি এবং ‘পারা’ শব্দের অর্থ টুকরা। অর্থাৎ আমার ধর্ম রুটির টুকরা নয় যে, সে জন্য সম্পদশালীদের তোষামোদ করতে থাক


------------------


*কালামের শেষের শের যাতে কবির কবিত্বমূলক নাম থাকে, তাকে মাকতা বলা হ


------------------------


ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺤَﺒِﻴﺐ ! ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻠﻰ ﻣُﺤَﻤَّ


আমার আক্বা আ’লা হযরত ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ যখন দ্বিতীয়বার হজ্ব পালন করতে মদীনা শরীফ গিয়েছিলেন, তখন মদীনা শরীফে তিনি ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ রাসূল (ﷺ) এর দীদার লাভের আশায় দীর্ঘক্ষণ যাবৎ রাসূল (ﷺ) এর রওজা মোবারকের সামনে সালাত ও সালাম পাঠ করতে থাকেন। কিন্তু প্রথম রাতে রাসূল (ﷺ) এর দীদার লাভের সৌভাগ্য ছিল না। তাই তিনি সেখানে বসে রাসূলে আকরাম (ﷺ) এর শানে প্রশংসামূলক গজল লিখেছিলেন; যার প্রথম চরণে তিনি রাসূল (ﷺ) এর দীদার লাভের আকাঙ্খা করেছিলেন। চরণটি নিম্নরূ



ওহ ছুয়ে লালা যার পিরতে


তেরে দিন এ বাহার পিরতে হে



কালামে রেযার ব্যাখ্যা: হে (বাহার) বসন্ত আন্দোলিত হও! এজন্য যে, তোমার বসন্তের উপর বসন্ত আগমণ কারী। ঐ দেখ! মদীনার তাজেদার (ﷺ) লালা যারের দিকে অর্থাৎ বাগানের দিকে তাশরীফ আন


কবিতার শেষ চরণে নিজের বিনয় ও নম্রতা এবং অসহায়ত্বের চিত্র এভাবে তুলে ধরে



কুয়ী কিউ পুছে তেরী বাত রে


তুজ ছে শায়দা হাজার পিরতে হে



(এ চরণের ২য় লাইনে আ’লা হযরত ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ বিনয় প্রকাশ করে নিজের জন্য কুকুর শব্দ ব্যবহার করেছেন। কিন্তু লিখক আ’লা হযরত ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ এর প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে কুকুরের জায়গায় শায়দা বা ‘আশিক’ লিখে দিয়েছে



কালামে রেযার ব্যাখ্যা: এই শেষ চরণে নবী প্রেমিক ছরকারে আ’লা হযরত চরম বিনয় প্রকাশ করতে গিয়ে নিজেকে নিজে বলতে লাগলেন: হে আহমদ রেযা! তুমি কে! আর তোমার বাস্তবতায় বা কি! তোমার মত তো হাজার হাজার মদীনার কুকুর গলী সমূহে এদিক সেদিক ঘুরাফেরা ক


এ গজল আরজ করার পর তিনি (ﷺ) এর দীদার লাভের অপেক্ষায় আদবের সাথে বসে রইলেন। হঠাৎ তাঁর ভাগ্য প্রসশ্ত হয়ে গেল। জাগ্রত অবস্থায় নিজ চোখে রাসূল (ﷺ) এর দীদার লাভের সৌভাগ্য তাঁর নসীব হয়ে গে


আল্লাহ তাআলার রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক, আর তাঁর সদকায় আমাদের বিনা হিসাবে ক্ষমা হো


ﺍٰﻣِﻴﻦ ﺑِﺠﺎ ﻩِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰِّ ﺍﻟْﺎَﻣﻴﻦ ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّ


ﺳُﺒْﺤٰﻦَ ﺍﻟﻠﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَ

নবীপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আ'লা হযরত

____________________

নবীপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আ'লা হযরত



আমার আক্বা আ’লা হযরত ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ এর আপাদমস্তক রাসূল প্রেমের বাস্তব নমুনা ছিল। রাসূল (ﷺ) এর প্রশংসায় লিখিত তাঁর বিখ্যাত কাব্য গ্রন্থ “হাদায়েকে বখশিশ শরীফ” প্রিয় নবী, হুযুর করীম (ﷺ) এর প্রতি তাঁর অগাধ ভালবাসার সাক্ষ্য বহন করে। তাঁর ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ কলমের নিব নয় বরং অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে নির্গত উক্ত কাব্য গ্রন্থের প্রতিটি চরণ আক্বা (ﷺ) এর প্রতি তাঁর নজিরবিহীন ভালবাসার প্রমাণ দেয়। তিনি ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ কখনও দুনিয়ার রাজা বাদশাহ, আমীর ওমরাহ ও সম্রাটের সম্মানে বা প্রশংসায় কোন কবিতা রচনা করেন নি। কেননা তিনি রাসূল (ﷺ) এর আনুগত্য ও দাসত্বকে মনে প্রাণে কবুল করে নিয়েছিলেন। এতে উচ্চ পর্যায়ে পৌছেছিলেন। তিনি তাঁর এক কবিতায় রাসূল (ﷺ) এর প্রতি তাঁর আনুগত্য ও দাসত্বকে এভাবে বর্ণনা করেছেন:



▪ উনহে জানা উনহে মানা ন রাখা গাইর ছে কাম,


লিল্লাহিল হামদ মে দুনিয়া ছে মুসলমান গেয়া।


একদা “নানপারা” (জিলা বেহরাইচ, ইউপি, হিন্দ)



প্রশাসনের নবাবের প্রশংসা ও গুন কীর্তনে তৎকালীন কবি সাহিত্যিকগণ অনেক কবিতা রচনা করে। কিছু লোক এসে আ’লা হযরত ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ কেও নবাবের প্রশংসায় কোন কবিতা লিখার জন্য আবেদন জানায় যে, হযরত! আপনিও নবাব সাহেবের প্রশংসায় কোন কবিতা লিখে দিন। তিনি ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ তাদের এ আবেদনের জবাবে একটি না’ত শরীফ লিখেন, যার প্রথম চরণ (মাত্লা*) নিম্নরূপ-



ওহ কামালে হুসনে হুযুর হে কে গুমানে নকছে জাহা নেহী,


য়েহী ফুল খার ছে দূর হে য়েহী শামআ হে কে ধোঁয়া নেহী।



কঠিন শব্দাবলীর অর্থ: কামাল= পরিপূর্ণ হওয়া, নকছ= অপূর্ণতা, ত্রুটি, খার= কাটা


কালামে রেযার ব্যাখ্যা: আমার আক্বা ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর সৌন্দর্য পরিপূর্ণতার স্তর পর্যন্ত পৌছেছে। অর্থাৎ প্রত্যেক দিক থেকে পরিপূর্ণ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ। এতে কোন ত্রুটি হওয়া তো দূরের কথা, ত্রুটির কল্পনাও করা যায় না। প্রত্যেক ফুলের ডালে কাটা থাকে কিন্তু আমেনার বাগানের এটি একটিই সুবাসিত ফুল হুযুর ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এমন যে, যেটা কাঁটা থেকে পবিত্র। প্রত্যেক মোমবাতি এটা ত্রুটি যে, সেটা ধোয়া বের করে তবে তিনি বাজমে রিসালাতের এমন আলোকিত প্রদীপ যে, ধোঁয়া সমূহ অর্থাৎ প্রত্যেক প্রকারের দোষত্রুটি থেকে পবিত্র।


--------------------


*গজল বা কসিদার শুরুর শের যাতে উভয় মিসরার/পংক্তির মধ্যে মিল রয়েছে, তাকে মাত্লা বলা হয়।


--------------------------


অতঃপর কবিতার শেষ চরণে (মাক্তায়*) তিনি অতি সূক্ষ্মভাবে “নানপারা” প্রশাসনের নবাবের সমালোচনা করেন। চরণটি নিম্নরূপ:



▪ করো মদহে আহলে দুওয়াল রেযা পড়ে ইস বালা মে মেরী বালা,


মে গদা হো আপনে করীম কা মেরা দ্বীন পারায়ে না নেহী।



কঠিন শব্দাবলীর অর্থ: মদ্হা= প্রশংসা, দুওয়াল= সম্পদ জমা করা, পারায়ে না= রুটির টুকরা।


কালামে রেযার ব্যাখ্যা: তিনি এ চরণে বুঝাতে চেয়েছেন, আমি রাজা বাদশাহ, আমীর ওমরাহদের প্রশংসা কেন করব! আমিতো উভয় জাহানের সুলতান, রহমাতুল্লিল আলামিন ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর দরবারের ভিখারী। আমার ধর্ম পারায়ে নান নয়। উর্দূতে ‘নান’ শব্দের অর্থ রুটি এবং ‘পারা’ শব্দের অর্থ টুকরা। অর্থাৎ আমার ধর্ম রুটির টুকরা নয় যে, সে জন্য সম্পদশালীদের তোষামোদ করতে থাকব।


--------------------


*কালামের শেষের শের যাতে কবির কবিত্বমূলক নাম থাকে, তাকে মাকতা বলা হয়।


--------------------------


ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺤَﺒِﻴﺐ ! ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻠﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪ


আমার আক্বা আ’লা হযরত ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ যখন দ্বিতীয়বার হজ্ব পালন করতে মদীনা শরীফ গিয়েছিলেন, তখন মদীনা শরীফে তিনি ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ রাসূল (ﷺ) এর দীদার লাভের আশায় দীর্ঘক্ষণ যাবৎ রাসূল (ﷺ) এর রওজা মোবারকের সামনে সালাত ও সালাম পাঠ করতে থাকেন। কিন্তু প্রথম রাতে রাসূল (ﷺ) এর দীদার লাভের সৌভাগ্য ছিল না। তাই তিনি সেখানে বসে রাসূলে আকরাম (ﷺ) এর শানে প্রশংসামূলক গজল লিখেছিলেন; যার প্রথম চরণে তিনি রাসূল (ﷺ) এর দীদার লাভের আকাঙ্খা করেছিলেন। চরণটি নিম্নরূপ:



ওহ ছুয়ে লালা যার পিরতে হে,


তেরে দিন এ বাহার পিরতে হে।



কালামে রেযার ব্যাখ্যা: হে (বাহার) বসন্ত আন্দোলিত হও! এজন্য যে, তোমার বসন্তের উপর বসন্ত আগমণ কারী। ঐ দেখ! মদীনার তাজেদার (ﷺ) লালা যারের দিকে অর্থাৎ বাগানের দিকে তাশরীফ আনছেন!


কবিতার শেষ চরণে নিজের বিনয় ও নম্রতা এবং অসহায়ত্বের চিত্র এভাবে তুলে ধরেন:



কুয়ী কিউ পুছে তেরী বাত রেযা,


তুজ ছে শায়দা হাজার পিরতে হে।



(এ চরণের ২য় লাইনে আ’লা হযরত ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ বিনয় প্রকাশ করে নিজের জন্য কুকুর শব্দ ব্যবহার করেছেন। কিন্তু লিখক আ’লা হযরত ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ এর প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে কুকুরের জায়গায় শায়দা বা ‘আশিক’ লিখে দিয়েছেন।)



কালামে রেযার ব্যাখ্যা: এই শেষ চরণে নবী প্রেমিক ছরকারে আ’লা হযরত চরম বিনয় প্রকাশ করতে গিয়ে নিজেকে নিজে বলতে লাগলেন: হে আহমদ রেযা! তুমি কে! আর তোমার বাস্তবতায় বা কি! তোমার মত তো হাজার হাজার মদীনার কুকুর গলী সমূহে এদিক সেদিক ঘুরাফেরা করছে।


এ গজল আরজ করার পর তিনি (ﷺ) এর দীদার লাভের অপেক্ষায় আদবের সাথে বসে রইলেন। হঠাৎ তাঁর ভাগ্য প্রসশ্ত হয়ে গেল। জাগ্রত অবস্থায় নিজ চোখে রাসূল (ﷺ) এর দীদার লাভের সৌভাগ্য তাঁর নসীব হয়ে গেল।


আল্লাহ তাআলার রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক, আর তাঁর সদকায় আমাদের বিনা হিসাবে ক্ষমা হোক।


ﺍٰﻣِﻴﻦ ﺑِﺠﺎ ﻩِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰِّ ﺍﻟْﺎَﻣﻴﻦ ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ


ﺳُﺒْﺤٰﻦَ ﺍﻟﻠﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞ !





No comments:

Post a Comment

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর মোহরে নবুওয়াত।।

 পরিচ্ছেদঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দু’কাঁধের মধ্যভাগে মোহরে নবুওয়াত ছিল خاتم অর্থ- আংটি, মোহর, সীল। মোহরে নবুওয়াত হলো রা...