## আমীর মু‘আভিয়ার ফযীলত সম্পর্কে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে-
এক.ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল হযরত আবরাজ ইবনে সারিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, হুযূর সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম দো‘আ করেছেন, ‘হে আল্লাহ্! মু‘আভিয়াকে কিতাব (ক্বোরআন) ও অংকের জ্ঞান দান করুন এবং তাকে আযাব থেকে রক্ষা করুন।’’
দুই. তিরমিযী শরীফে হযরত আবদুর রহমান ইবনে আবূ আমীরাহ্ মাদানী থেকে বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম আরো দো‘আ করেছেন, ‘‘হে আল্লাহ্, মু‘আভিয়াকে হেদায়তপ্রাপ্ত ও হিদায়তদাতা করে দাও! এবং মু‘আভিয়ার মাধ্যমে জনগণকে হিদায়ত দান করো।’’ ইমাম তিরমিযী এ হাদীসকে ‘হাসান’ পর্যায়ের বলেছেন।
তিন. হাফেয হারিস ইবনে উসামা এক দীর্ঘ হাদীস রেওয়ায়ত করেছেন, যার মধ্যে খোলাফা-ই রাশেদীন ও অন্যান্য সাহাবা-ই কেরামেরও ফযীলতসমূহ বর্ণিত হয়েছে। ওই হাদীসে এটাও আছে-
وَمُعَاوِيَةُ بْنُ اَبِىْ سُفْيَانَ اَعْلَمُ اُمَّتَِىْ وَاَجْوَدُهَا
অর্থাৎ মু‘আভিয়া আমার উম্মতের বড় জ্ঞানী, দয়ালু ও দানবীর।
চার. ইমাম ত্বাবারী স্বীয় সিয়র গ্রন্থে একটি দীর্ঘ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন। তাতে খোলাফা-ই রাশেদীন ও ‘আশারাহ্-ই মুবাশ্শারাহ্র ফযীলতসমূহ বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসের শেষ প্রান্তে এটাও আছে-
وَصَاحِبُ سِرِىْ مُعَاوِيَةُ بْنُ اَبِىْ سُفْيَانَ ـ
فَمَنْ اَحَبَّهُمْ فَقَدْ نَجٰى وَمَنْ اَبْغَضَهُمْ فَقَد هَلَكَ
অর্থ: ‘‘আমার গোপনীয় বিষয়াদির সংরক্ষক হলো মু‘আভিয়া ইবনে আবূ সুফিয়ান। যে ব্যক্তি তাদের সবাইকে ভালবাসবে সে নাজাত পাবে, আর যে তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, সে ধ্বংস হয়ে যাবে।’’
চার. হাফেয ইমাম হায়তমী হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, একদা হুযূর-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম স্বীয় পবিত্র স্ত্রী উম্মে হাবীবা (রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা)’র নিকট তাশরীফ নিয়ে গেলেন। দেখলেন তিনি আপন সহোদর আমীর মু‘আভিয়ার মস্তক আপন কোলে নিয়ে বসে আছেন এবং তাঁকে বারংবার ¯েœহভরে চুমু দিচ্ছেন। তখন হুযূর-ই আক্রাম এরশাদ করলেন, ‘‘হে উম্মে হাবীবাহ্! তুমি কি মু‘আভিয়াকে ¯েœহ করছো?’’ তিনি আরয করলেন, ‘‘জী-হাঁ। সে আমার সহোদর (ভাই)।’’ হুযূর-ই আক্রাম এরশাদ করলেন, ‘‘আল্লাহ্ এবং তাঁর রসূলও মু‘আভিয়াকে ভালবাসেন।’’
পাঁচ. আবূ বকর ইবনে আবূ শায়বাহ্ স্বয়ং আমীর মু‘আভিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, একদা হুযূর-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, ‘‘হে মু‘আভিয়া, যদি তুমি বাদশাহ হও, তবে কল্যাণ করো।’’ তখন থেকে আমার দৃঢ় বিশ্বাস হয়ে গেলো যে, আমার বাদশাহী মিলবে।
ছয়. আবূ ইয়া’লা হযরত আমীর মু‘আভিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, ‘‘হে মু‘আভিয়া, যদি তুমি শাসক (বাদশাহ্) হও, তবে আল্লাহকে ভয় করো এবং ন্যায় বিচার করো।’’ কিছুটা পার্থক্য সহকারে এ হাদীস ‘মুসনাদে ইমাম আহমদ’-এও বর্ণিত হয়েছে।
সাত. ইমাম ত্বাবরানী ‘আওসাত্ব’ গ্রন্থে হযরত আমীর মু‘আভিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হুযূর-ই আক্রাম আমার উদ্দেশে এরশাদ করেছেন, ‘‘হে মু‘আভিয়া, যদি তুমি শাসক হও, তাহলে অপরাধীদেরকে যথাসম্ভব ক্ষমা করে দিও, নেক্কার লোকদের নেকী গ্রহণ করিও।’’
এ রেওয়ায়ত ভিন্ন ভিন্নভাবে অনেক কিতাবে মওজুদ আছে।
No comments:
Post a Comment